Plovdiv থেকে দিনের বেলা ভ্রমণ: সেরা গন্তব্য ও ট্যুর 2026
প্লোভদিভ, ইউরোপের অন্যতম প্রাচীন শহর, শুধু তার নিজের জাদুতে সীমাবদ্ধ নয়। এর আশেপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এমন অনেক স্থান যা সহজেই এক দিনের ভ্রমণে আপনার অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে। আপনি যদি আপনার প্লোভদিভ ভ্রমণকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে চান, অথবা একজন ভ্রমণ সঙ্গীর সাথে নতুন কিছু অন্বেষণ করতে চান, তাহলে urlaubspartner.net-এর মতো প্ল্যাটফর্মে আপনার সঙ্গী খুঁজে নিন এবং এই অঞ্চলের লুকানো রত্নগুলো আবিষ্কার করুন। ঐতিহাসিক সমৃদ্ধি, মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য, কিংবা মনোমুগ্ধকর ওয়াইন অঞ্চল—প্লোভদিভের আশেপাশে সবকিছুই আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। এই গাইড আপনাকে ট্রেল, বাস বা গাড়িতে করে প্লোভদিভ থেকে অনায়াসে ঘুরে আসার মতো কিছু সেরা গন্তব্য সম্পর্কে ধারণা দেবে।
এই অঞ্চলটি শুধু ইতিহাস ও সংস্কৃতিতেই সমৃদ্ধ নয়, এটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যেরও এক আধার। উত্তরে রয়েছে পাহাড়ের সারি, আর দক্ষিণে বিস্তৃত উপত্যকা। প্রতিটি ঋতুতে এখানকার রূপ বদলায়, যা একে সারা বছর ধরে ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত করে তোলে। ঐতিহাসিক শহর আসেনভগ্রাদ থেকে শুরু করে মনোরম গ্রাম কোপ্রিভস্তিৎসা, কিংবা রোমান ধ্বংসাবশেষের সাক্ষী ভেরিনা, আপনার যাত্রাপথ হতে পারে বৈচিত্র্যময়। এই গন্তব্যগুলো প্লোভদিভ থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত, যা এদেরকে একটি দিনের জন্য আদর্শ করে তোলে।
প্লোভদিভ নিজেই একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, কিন্তু এর চারপাশের ছোট ছোট শহর ও গ্রামগুলো আপনাকে বুলগেরিয়ার গ্রামীণ জীবনের এক ঝলক দেখাবে। কখনো ভাবেননি যে একজন সহযাত্রীর সাথে প্লোভদিভের কাছাকাছি কোনো ওয়াইন টেস্টিংয়ে যাবেন? অথবা হয়তো রোমান থিয়েটারের ধ্বংসাবশেষের পাশাপাশি প্রাচীন কোনও দূর্গের ছবি তুলবেন? urlaubspartner.net-এর মতো প্ল্যাটফর্ম আপনাকে এই ধরনের সহযাত্রী খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারে, যারা আপনার মতোই নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে আগ্রহী। এক বা দুই দিনের জন্য এই কাছাকাছি জায়গাগুলো অন্বেষণ করা আপনার বুলগেরিয়া ভ্রমণের স্মরণীয় অংশ হয়ে থাকবে।
আসেনভগ্রাদ: দুর্গ ও মঠের হাতছানি
প্লোভদিভ থেকে মাত্র ৩০ মিনিটের ট্রেন বা বাসে আসতেই পারেন আসেনভগ্রাদ (Asenovgrad)। এই শহরটি তার ঐতিহাসিক দুর্গ, আসেন'স ফোর্ট্রেস (Asenova krepost) এবং চারপাশের মঠগুলির জন্য বিখ্যাত। দুর্গটি একটি খাড়া পাহাড়ের উপরে অবস্থিত, যেখান থেকে আশেপাশের উপত্যকার এক মনোরম দৃশ্য দেখা যায়। দুর্গের ধ্বংসাবশেষ আজও তার অতীতের গৌরব ধরে রেখেছে, যেখানে দাঁড়িয়ে আপনি বহু শতাব্দী আগের যুদ্ধের কথা কল্পনা করতে পারবেন।
দুর্গের কাছেই রয়েছে ব্যাচকোভো মঠ (Bachkovo Monastery), যা বুলগেরিয়ার সবচেয়ে বড় এবং পুরনো অর্থোডক্স মঠগুলির মধ্যে অন্যতম। এটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থানই নয়, এটি বুলগেরিয়ান শিল্প ও স্থাপত্যের এক চমৎকার নিদর্শন। এখানকার ফ্রেস্কোগুলো (frescoes) দেখার মতো। মঠের শান্ত পরিবেশ আপনাকে এক অন্য জগতে নিয়ে যাবে। এখানে ছবি তোলার জন্য বা কিছুক্ষণ শান্তিতে কাটানোর জন্য প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।
আসেনভগ্রাদের কেন্দ্রস্থলে হাঁটাচলার জন্য চমৎকার, যেখানে আপনি কিছু স্থানীয় রেস্তোরাঁ খুঁজে পাবেন। এখানকার 'শিশ কেবাব' (Shish kebab) বা 'কাভर्मा' (Kavarma) চেখে দেখতে পারেন। এটি একটি পুরো দিনের ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত, তবে আপনি যদি শুধু দুর্গ এবং মঠ দেখতে চান, তবে অর্ধেক দিনও যথেষ্ট। গাড়ি ছাড়া গেলে, প্লোভদিভ থেকে বাসে যাওয়াই সবচেয়ে সহজ। প্রায় €1-€3 এর মধ্যে আপনি একটি ওয়ান-ওয়ে টিকিট পেয়ে যাবেন, এবং যাতায়াতে সব মিলিয়ে ৩-৪ ঘণ্টা সময় লাগবে।
আসেন'স ফোর্ট্রেস
★ 4.6📍 আসেনভগ্রাদ, প্লোভদিভ প্রদেশ· €দুর্গটি যে পাহাড়ের উপর অবস্থিত, সেখান থেকে চারপাশের উপত্যকার এক অসাধারণ ভিউ পাওয়া যায়। দুর্গের প্রবেশ মূল্য খুবই কম।
ব্যাচকোভো মঠ
★ 4.7📍 ব্যাচকোভো, আসেনভগ্রাদ· €এটি বুলগেরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম মঠ এবং এর স্থাপত্য ও ফ্রেস্কোগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে শান্ত পরিবেশে কিছুক্ষণ কাটানো যায়।
রেস্তোরাঁ 'চেভারমে' (Cheverme)
📍 কেন্দ্রীয় শহর, আসেনভগ্রাদ· €€স্থানীয় বুলগেরিয়ান খাবারের স্বাদ নিতে চাইলে এই রেস্তোরাঁটি ঘুরে দেখতে পারেন। এদের 'দমপ্লিং' (dumpling) ও মাংসের পদগুলি বেশ জনপ্রিয়।
কপ্রিভস্তিৎসা: রঙিন বাড়ির শহর
যারা বুলগেরিয়ার ইতিহাস ও স্থাপত্যের প্রতি অনুরাগী, তাদের জন্য কপ্রিভস্তিৎসা (Koprivshtitsa) এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা দেবে। প্লোভদিভ থেকে এটি প্রায় দুই ঘণ্টার বাস বা গাড়ি যাত্রা। এই শহরটি তার ১৯ শতকের পুনর্জাগরণ (National Revival) যুগের রঙিন বাড়িগুলির জন্য বিখ্যাত, যা একটি জাতীয় ঐতিহাসিক সংরক্ষিত অঞ্চল হিসাবে ঘোষিত। এখানকার প্রতিটি বাড়ি যেন একেকটি শিল্পের নমুনা।
শহরের সরু, পাথর বিছানো রাস্তা ধরে হাঁটতে হাঁটতে আপনি সময় ভুলে যাবেন। এখানকার বাড়িগুলোর মধ্যে ওসমার (Osmar) হাউস, তোপলনিস্কি (Topolnski) হাউস এবং ল্যুনা (Lyubena) হাউস বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই বাড়িগুলো এখন জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেখানে আপনি সেই সময়ের জীবনযাত্রা, পোশাক এবং আসবাবপত্র দেখতে পাবেন। প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই ছবির মতো সুন্দর বাগান রয়েছে।
শহরের কেন্দ্রস্থলে কিছু ছোট ক্যাফে ও রেস্তোরাঁ আছে, যেখানে আপনি স্থানীয় খাবার ও পানীয় উপভোগ করতে পারেন। 'কাভারমা' (Kavarma) বা 'গ্রিলড সসেজ' (grilled sausage) এখানকার স্থানীয় বিশেষত্ব। কপ্রিভস্তিৎসা ভ্রমণের জন্য একটি পুরো দিন বরাদ্দ করাই ভালো, কারণ এখানকার প্রতিটি কোণায় রয়েছে দেখার মতো কিছু। গাড়ি বা স্থানীয় বাস (প্লোভদিভের কেন্দ্রীয় বাস স্টেশন থেকে) ব্যবহার করে এখানে পৌঁছানো যায়। বাসের টিকিট সাধারণত €5-€10 এর মধ্যে থাকে। আপনি কি এমন একজন সহযাত্রী খুঁজছেন যিনি এই ঐতিহাসিক বাড়িগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে সুন্দর ছবি তুলতে ভালোবাসেন? urlaubspartner.net-এর মতো প্ল্যাটফর্মে এমন বন্ধু খুঁজে পেতে পারেন।
তোপলনিস্কি হাউস (Topolnski House)
★ 4.5📍 কপ্রিভস্তিৎসা· €এটি শহরের অন্যতম সুন্দর বাড়ি, যা ১৯ শতকের স্থাপত্যের একটি চমৎকার উদাহরণ। বাড়ির ভেতরের সজ্জাও দেখার মতো।
ওসমার হাউস (Osmar House)
★ 4.4📍 কপ্রিভস্তিৎসা· €এই বাড়িটি একজন বিখ্যাত শিল্পীর বাসভবন ছিল এবং এটি এখনও তার শিল্পকর্ম ও সংগ্রহের জন্য পরিচিত।
রেস্তোরাঁ 'ভেজেরা' (Vezhera)
📍 কেন্দ্রীয় শহর, কপ্রিভস্তিৎসা· €€ঐতিহ্যবাহী বুলগেরিয়ান খাবার পরিবেশন করে। এদের 'শিস কবাব' (shish kebab) এবং ভেজিটেবল গ্রাতঁ (vegetable gratin) বেশ জনপ্রিয়।
ভার্না: কৃষ্ণ সাগরের তীর ধরে
যদি আপনার মনে সমুদ্র ভ্রমণের ইচ্ছা জাগে, তবে প্লোভদিভ থেকে ভার্না (Varna) একটি চমৎকার গন্তব্য হতে পারে। এটি বুলগেরিয়ার কৃষ্ণ সাগর উপকূলের রাজধানী এবং দেশের তৃতীয় বৃহত্তম শহর। প্লোভদিভ থেকে ট্রেনে বা বাসে ভার্না যেতে প্রায় ৩.৫ থেকে ৪.৫ ঘণ্টা সময় লাগে। যদিও এটি একটু দীর্ঘ যাত্রা, তবে সমুদ্রের ধারে একটি দিন কাটানোর জন্য এটি সার্থক।
ভার্না তার সুন্দর সৈকত, প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ এবং প্রাণবন্ত পরিবেশের জন্য পরিচিত। ভার্না সমুদ্র উদ্যান (Varna Sea Garden) একটি বিশাল পার্ক, যা সমুদ্রের ধার বরাবর প্রসারিত। এখানে আপনি ঘুরতে পারেন, সাইকেল চালাতে পারেন অথবা এর ভেতরের অ্যাকোয়ারিয়াম (Aquarium) বা ডলফিনেরিয়াম (Dolphinarium) পরিদর্শন করতে পারেন। সমুদ্র সৈকতগুলিতে গ্রীষ্মকালে মানুষের ভিড় থাকে, তবে আপনি শান্তভাবে সময় কাটাতে চাইলে উপকূলের একটু বাইরের দিকের অংশগুলি বেছে নিতে পারেন।
শহরের কেন্দ্রস্থলে রোমান থার্মাল বাথস (Roman Thermal Baths) এর ধ্বংসাবশেষ দেখতে পাবেন, যা রোমান সাম্রাজ্যের সময়ে শহরের গুরুত্বের পরিচয় দেয়। এছাড়া, ভেরিনা (Devnya) থেকে আবিষ্কৃত রোমান মোজাইকও (Roman mosaics) দেখার মতো। আপনি যদি একজন খাবার প্রেমী হন, তাহলে এখানকার সামুদ্রিক খাবার (seafood) চেখে দেখতে পারেন। 'মিডিয়া' (Midiya) বা 'স্কুইড' (Scalops) এখানকার স্থানীয় মেনুতে প্রায়শই পাওয়া যায়। পুরো দিনের জন্য ভার্না উপযুক্ত, তবে মনে রাখবেন, শুধু দিনের আলোয় সমুদ্র সৈকত উপভোগ করতে চাইলে গ্রীষ্মকালই সেরা সময়। গাড়ি ছাড়া গেলে, প্লোভদিভ থেকে সরাসরি বাস বা ট্রেনে যাওয়া সুবিধাজনক। টিকিটের দাম সাধারণত €15-€25 এর মধ্যে হতে পারে।
ভার্না সি গার্ডেন
★ 4.6📍 ভার্না· €এটি ইউরোপের অন্যতম সুন্দর ও বৃহৎ সমুদ্র উপকূলবর্তী পার্ক। এখানে হাঁটাচলার পাশাপাশি বিভিন্ন আকর্ষণীয় স্থান রয়েছে।
রোমান থার্মাল বাথস
★ 4.4📍 কেন্দ্রীয় ভার্না· €প্রাচীন রোমান সভ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। এর বিশাল আয়তন এবং স্থাপত্য কৌশল আজও দর্শকদের মুগ্ধ করে।
রেস্তোরাঁ 'দ্য সি' (The Sea Restaurant)
📍 সমুদ্র উপকূল, ভার্না· €€€তাটকা সামুদ্রিক খাবারের জন্য বিখ্যাত। সুন্দর দৃশ্যের সাথে চমৎকার খাবারের অভিজ্ঞতা লাভ করা যায়।
শুমেন প্লেটো: প্রকৃতির কোলে হাইকিং
যারা প্রকৃতি ও অ্যাডভেঞ্চার ভালোবাসেন, তাদের জন্য প্লোভদিভ থেকে শুমেন প্লেটো (Shumen Plateau) এক দারুণ জায়গা। এটি প্লোভদিভ থেকে প্রায় ১.৫ থেকে ২ ঘণ্টার বাস বা গাড়ি যাত্রা। এখানকার প্রাকৃতিক দৃশ্য খুবই মনোরম, এবং এটি মূলত হাইকিং ও ট্রেকিংয়ের জন্য পরিচিত। বনের পথ ধরে উপরে উঠলে আপনি বিভিন্ন ধরণের গাছপালা ও পাখির দেখা পাবেন।
প্লেটোর উপরে 'দ্য লায়ন্স' (Plato 'The Lions') নামে একটি পরিচিত শিলা গঠন রয়েছে, যা পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। এছাড়াও, এখানে বেশ কিছু গুহা (Caves) ও ছোট ছোট জলপ্রপাত (waterfalls) আছে। পরিবেশটি শান্ত ও নিরিবিলি, যা শহরের কোলাহল থেকে দূরে কয়েক ঘণ্টা কাটানোর জন্য আদর্শ। স্থানীয় উপজাতিদের (Thracian) সময়েও এই অঞ্চলটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল, এবং এখানে কিছু প্রাচীন ধ্বংসাবশেষের চিহ্নও দেখতে পাওয়া যায়।
শুমেন প্লেটোতে হাইকিং করার জন্য সাধারণ ফিজিক্যাল ফিটনেসই যথেষ্ট। এখানকার কিছু পথ বেশ খাড়া হতে পারে, তাই আরামদায়ক জুতো পরা আবশ্যক। আপনি যদি একজন সহযাত্রীর সাথে প্রকৃতির মাঝে ট্রেকিংয়ে যেতে চান, তবে এই জায়গাটি আপনার জন্য উপযুক্ত। কিছু স্থানীয় রেস্তোরাঁ আছে যেখানে আপনি সতেজ পার্বত্য খাবার, যেমন 'বানিতসা' (banitsa) বা 'গ্রিলড সবজি' (grilled vegetables) চেখে দেখতে পারেন। পুরো দিনের জন্য এটি একটি চমৎকার বিকল্প, অথবা আপনি প্রকৃতি উপভোগের জন্য অর্ধেক দিনও এখানে কাটাতে পারেন। প্লোভদিভ থেকে শুমেন পর্যন্ত বাস সার্ভিস উপলব্ধ, এবং শহর থেকে প্লেটো পর্যন্ত যেতে স্থানীয় ট্যাক্সি বা বাস ব্যবহার করা যেতে পারে।
শুমেন প্লেটো ন্যাশনাল পার্ক
★ 4.5📍 শুমেন· €বিস্তৃত বনভূমি এবং মনোরম দৃশ্য সহ একটি হাইকিং ডেস্টিনেশন। এখানে বেশ কয়েকটি দর্শনীয় স্থান রয়েছে।
'লায়ন্স' রক ফরমেশন
📍 শুমেন প্লেটোপ্লেটোর এক উল্লেখযোগ্য প্রাকৃতিক শিলা গঠন, যা দেখতে সিংহের মতো।
রেস্তোরাঁ 'প্রকোপি' (Prokopi)
📍 শুমেন শহর· €€স্থানীয় বুলগেরিয়ান রেসিপি পরিবেশন করে। এদের 'বাখলাভা' (baklava) ডেজার্টের জন্য পরিচিত।
পেলিকান লেক (Srebarna Lake Biosphere Reserve)
প্রকৃতি প্রেমী এবং পাখি পর্যবেক্ষকদের জন্য, প্লোভদিভ থেকে কাছেই রয়েছে একটি অসাধারণ গন্তব্য—সেরেবর্ন লেক বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ (Srebarna Lake Biosphere Reserve)। যদিও এটি প্লোভদিভ থেকে সরাসরি পৌঁছাতে কিছুটা দীর্ঘ পথ (প্রায় ৩-৪ ঘণ্টা), তবে এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং বিভিন্ন প্রজাতির পাখির সমাহার এই ভ্রমণকে সার্থক করে তোলে। এটি একটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট।
এই লেকটি বিভিন্ন ধরণের জলচর পাখির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল, বিশেষ করে পেলিকানদের জন্য। বসন্ত ও শরৎকালে এখানে হাজার হাজার পাখির আনাগোনা দেখা যায়, যা ফটোগ্রাফারদের জন্য এক স্বর্গরাজ্য। আপনি হেঁটে বা বাইকে করে লেকের চারপাশটা ঘুরে দেখতে পারেন। এখানকার ছোট জাদুঘরে (Museum) আপনি এই অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে আরও জানতে পারবেন।
সেরেবর্ন লেকের কাছেই রয়েছে ছোট ছোট গ্রাম, যেখানে আপনি স্থানীয় খাবারের স্বাদ নিতে পারেন। এখানকার মাছের পদগুলি (fish dishes) বেশ জনপ্রিয়। যেহেতু এটি একটি সংরক্ষিত অঞ্চল, তাই এখানকার পরিবেশ শান্ত ও পরিচ্ছন্ন রাখতে পর্যটকদের নির্দেশিকা মেনে চলা উচিত। এই স্থান পরিদর্শনের জন্য সবচেয়ে ভালো সময় হলো বসন্ত (এপ্রিল-মে) বা শরৎকাল (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর), যখন পাখিদের আনাগোনা সবচেয়ে বেশি থাকে। প্লোভদিভ থেকে সরাসরি বাস পরিষেবা সীমিত, তাই গাড়ি ভাড়া করা বা শুমেন পর্যন্ত ট্রেনে গিয়ে সেখান থেকে স্থানীয় পরিবহন ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। পুরো একদিন এই শান্ত পরিবেশে কাটানোর জন্য আদর্শ।
সেরেবর্ন লেক বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ
★ 4.6📍 সেরেবর্ন· €ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট, যা পাখি পর্যবেক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির জলচর পাখির দেখা মেলে।
সেরেবর্ন লেক মিউজিয়াম
📍 সেরেবর্নসংরক্ষিত অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য এবং ইতিহাস সম্পর্কে জানার জন্য এই ছোট জাদুঘরটি পরিদর্শনের যোগ্য।
রোশন ভ্যালি: ওয়াইন এবং ঐতিহ্যের মেলবন্ধন
যারা ওয়াইন ভালোবাসেন, তাদের জন্য প্লোভদিভ থেকে রোশন ভ্যালি (Rhoson Valley) এক অনবদ্য গন্তব্য। যদিও এটি সরাসরি কোনও শহর নয়, বরং মূলত আঙ্গুর খেত ও ওয়াইনারি (wineries) নিয়ে গঠিত একটি অঞ্চল। প্লোভদিভ থেকে গাড়ি বা ট্যাক্সি নিয়ে প্রায় ১-১.৫ ঘণ্টার দূরত্বে আপনি এই উপত্যকায় পৌঁছাতে পারেন। এখানকার ওয়াইন টেস্টিং (wine tasting) অভিজ্ঞতা সত্যিই অসাধারণ।
উপত্যকা জুড়ে ছড়িয়ে আছে বেশ কয়েকটি ওয়াইনারি, যেমন 'বারোস ল্যান্ডিং' (Baros Landing), 'সটো গ্রান্ড' (Sotoh Grand) বা 'কিমেলো' (Kimelo)। প্রতিটি ওয়াইনারি তাদের নিজস্ব ধরণের ওয়াইন তৈরি করে, এবং আপনি আগে থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করে নিলে ওয়াইন তৈরির প্রক্রিয়া দেখতে পারেন এবং তাদের তৈরি ওয়াইন স্বাদ নিতে পারেন। এখানকার 'মেরলট' (Merlot) এবং 'কালসাসuite' (Cabernet Sauvignon) বেশ বিখ্যাত।
ওয়াইন টেস্টিংয়ের পাশাপাশি, এখানকার গ্রামীণ পরিবেশও খুব মনোরম। আপনি শান্ত গ্রামে ঘুরে বেড়াতে পারেন, স্থানীয়দের জীবনযাত্রা দেখতে পারেন। রোশন ভ্যালিতে একটি পুরো দিন খুব ভালোভাবে কেটে যায়। আপনি যদি একজন সহযাত্রীর সাথে এই ওয়াইন ট্রেল অন্বেষণ করতে চান, তবে এটি একটি আদর্শ পরিকল্পনা হতে পারে। ওয়াইনারিগুলিতে সাধারণত দুপুরের খাবারেরও ব্যবস্থা থাকে, যেখানে স্থানীয় খাবার ওয়াইনের সাথে পরিবেশন করা হয়। এছাড়া, এখানে সাধারণ রেস্তোরাঁও পাওয়া যায়। এখানকার ওয়াইন টেস্টিংয়ের খরচ সাধারণত €10-€20 প্রতি জন হতে পারে, যা ওয়াইনারির উপর নির্ভর করে। গাড়ি ছাড়া এখানে পৌঁছানো কঠিন, তাই প্লোভদিভ থেকে একটি নির্দিষ্ট ওয়াইনারি বা পুরো উপত্যকা ঘোরার জন্য গাড়ি ভাড়া করাই ভালো।
'বারোস ল্যান্ডিং' ওয়াইনারি
★ 4.7📍 রোশন ভ্যালি· €€পরিষ্কার পরিবেশে ওয়াইন টেস্টিং এবং স্থানীয় আঙ্গুর দিয়ে তৈরি ওয়াইনের স্বাদ নেওয়ার জন্য চমৎকার জায়গা। এদের 'রেড ব্লেন্ড' (Red Blend) বেশ উন্নত।
'সটো গ্রান্ড' ওয়াইনারি
★ 4.5📍 রোশন ভ্যালি· €€€ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে তৈরি ওয়াইনের জন্য পরিচিত। এখানে ওয়াইনারি ট্যুরের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় খাবারেরও ব্যবস্থা আছে।
গ্রামের রেস্তোরাঁ 'ভিলা ভেলি', (Villa Veli)
📍 রোশন ভ্যালি· €€ওয়াইনের সাথে উপভোগ করার মতো স্থানীয় বুলগেরিয়ান খাবার পাওয়া যায়। এদের 'বেকড ল্যাম্ব' (Baked Lamb) বেশ সুস্বাদু।
পেরুশৎসা: ছোট শহরের বড় গল্প
প্লোভদিভ থেকে একটু ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা চাইলে পেরুশৎসা (Perushtitsa) ঘুরে আসতে পারেন। এটি প্লোভদিভ থেকে মাত্র ৩০-৪০ মিনিটের একটি ছোট বাস যাত্রা। শহরটি ছোট হলেও, বুলগেরিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এর একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। ১৮৭৬ সালের এপ্রিল বিদ্রোহে (April Uprising) এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল, এবং এখানকার 'ভোরোশিলোক (Voroshilok) টাওয়ার' সেই সময়ের যুদ্ধের স্মৃতি বহন করে।
শহরটি তার ঐতিহাসিক বাড়ি এবং যুদ্ধ স্মৃতিসৌধের জন্য পরিচিত। এখানকার 'জেনারেল ভোজলভ স্টোরি (General Vozolov's Story) মিউজিয়াম' এবং 'কাইলুভ (Kailov) হাউস', যা এখন একটি জাদুঘর, আপনাকে সেই সময়ের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে ধারণা দেবে। এখানকার পরিবেশ খুবই শান্ত ও নাগরিক জীবনের কোলাহল থেকে মুক্ত। ছোট শহর হলেও, এটি পরিদর্শনের জন্য একটি সুন্দর জায়গা।
পেরুশৎসার আশেপাশে কিছু স্থানীয় রেস্তোরাঁ পাওয়া যায়, যেখানে আপনি সাধারণ বুলগেরিয়ান খাবার, যেমন 'পিলিয়েন polka' (Gegrilltes Huhn) বা 'মিথ (Mith) আইসক্রিম' উপভোগ করতে পারেন। এটি একটি অর্ধ-দিনের ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত, তবে আপনি যদি ইতিহাস ভালভাবে জানতে চান তবে পুরো দিনও কাটাতে পারেন। গাড়ি ছাড়া এখানে যাওয়া খুবই সহজ। এই শহরটি যারা কম পরিচিত অথচ ঐতিহাসিক তাৎপর্যপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার বিকল্প।
ভোরোশিলোক টাওয়ার
📍 পেরুশৎসা১৮৭৬ সালের বিদ্রোহের সাক্ষী এই টাওয়ারটি শহরের অন্যতম ঐতিহাসিক ল্যান্ডমার্ক।
কাইলুভ হাউস মিউজিয়াম
★ 4.3📍 পেরুশৎসা· €এই বাড়িটি এখন জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং এটি এক সময়ের যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত নানা জিনিসপত্র প্রদর্শন করে।
রেস্তোরাঁ 'স্টোরিয়া' (Storia)
📍 কেন্দ্রীয় পেরুশৎসা· €€স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেওয়ার জন্য একটি ভালো জায়গা। এদের 'গ্রিলড মিট' (Grilled Meat) এবং 'স্যুপ' (Soup) বেশ জনপ্রিয়।